Hawkerbd.com     SINCE
 
 
 
 
ভারতের ফারাক্কা ও ব্যান্ডেল বন্দর ব্যবহার করতে চায় বাংলাদেশ [ শেষের পাতা ] 16/08/2015
ভারতের ফারাক্কা ও ব্যান্ডেল বন্দর ব্যবহার করতে চায় বাংলাদেশ
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নৌ-প্রটোকলের আওতায় বাংলাদেশের পানগাঁও বন্দর ব্যবহার করতে চায় ভারত। বিনিময়ে ভারতের ফারাক্কা ও ব্যান্ডেল নৌবন্দর ব্যবহার করতে চায় বাংলাদেশ। বন্দর দুটি ব্যবহারে আগ্রহের বিষয়টি জানিয়ে এরই মধ্যে ভারতকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে অতিরিক্ত বন্দর সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। আজ ট্রানজিট ফি নির্ধারণে যৌথ কারিগরি কমিটির এ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও ভারতের প্রস্তুতির অভাবে নির্ধারিত দিনে তা হচ্ছে না। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে বৈঠকটি অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

ভারত এ বিষয়ে সম্মতি দিলে সবচেয়ে কাছের বন্দর হিসেবে সিরাজগঞ্জ বন্দর থেকে ফারাক্কা হয়ে জাহাজগুলো চলাচলের সুযোগ পাবে। সিরাজগঞ্জ বন্দর থেকে ফারাক্কা বন্দরের দূরত্ব প্রায় ২১৫ কিলোমিটার। অন্যদিকে মংলা বা খুলনা বন্দর থেকে ব্যান্ডেল বন্দর ব্যবহার করা যাবে; যার দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের মতো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ট্রাফিক ও পোর্ট বিভাগের পরিচালক এম শফিকুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, মূলত কৌশলগত দিক বিবেচনা করেই ফারাক্কা ও ব্যান্ডেল বন্দর ব্যবহার করতে চেয়েছে বাংলাদেশ। ব্যান্ডেল বন্দরের আশপাশে বেশকিছু শিল্প গড়ে উঠেছে। ফলে সেখান থেকে সহজেই ফ্লাই অ্যাশ আমদানি করতে পারবেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। আর ফারাক্কা বন্দর ব্যবহারের মূল উপকারটি হবে পাথর আমদানির ক্ষেত্রে। এতে পদ্মা সেতুসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে এ বন্দর ব্যবহার কাজে আসবে।

তিনি আরো বলেন, ভারত পানগাঁও ব্যবহার করতে চেয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে আরো দুটি বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল ব্যবহারে ভারতের সুযোগ রয়েছে; যা এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) বা নৌ-প্রটোকলের আওতায় থাকা ‘পোর্ট অব কল’ বা নির্ধারিত বন্দরগুলো ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতের কলকাতা, হালদিয়া, করিমগঞ্জ, পান্ডু ও শিলঘাট বন্দর ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, মংলা, সিরাজগঞ্জ ও আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করতে পারে ভারত। সেই সঙ্গে যাত্রাপথে তেল সংগ্রহ বা বাঙ্কারিংয়ের জন্য নির্ধারিত বন্দরের বাইরে বাংলাদেশের শেখবাড়িয়া, বরিশাল, চাঁদপুর ও চিলমারী বন্দর ব্যবহার করতে পারবে ভারতীয় জাহাজগুলো। একইভাবে ভারতের যোগীগোপা, ধুবড়ি, নামখানা ও বজবজ বন্দরে বাংলাদেশী জাহাজগুলোর বাঙ্কারিংয়ের অনুমতি রয়েছে। এছাড়া মেরামতের জন্য সরকারি বা যেকোনো সনামধন্য জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানে দুই দেশের জাহাজগুলোই সুযোগ পাবে।

সর্বশেষ চলতি বছরের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকালে পিআইডব্লিউটিটি সংশোধন করে সই করা হয়। এবারের সংশোধনের মাধ্যমে নৌ-প্রটোকলের মেয়াদ পাঁচ বছর করা হয়। এ প্রটোকল নিয়ে কোনো পক্ষ যদি আপত্তি না তোলে, তবে পাঁচ বছর পর পর সয়ংক্রিয়ভাবে এটি নবায়ন হবে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে ১০ বছরের জন্য নবায়নের প্রস্তাব দেয়া হলেও বাংলাদেশ তাতে সম্মতি দেয়নি।

এর আগে ২০১১ সালের এপ্রিলে পিআইডব্লিউটিটি সংশোধন করা হয়। নৌপথে কম মূল্যে পণ্য পরিবহনের জন্য চুক্তিটি বাংলাদেশ ও ভারতের ১৯৭২ সালের ২৮ মার্চের বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রথম সই হয়। এর বর্তমান সংশোধনী অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশের নৌ, রেল ও সড়ক ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব ভারত অথবা তৃতীয় দেশে পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট করতে পারবে। একইভাবে বাংলাদেশ ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট করতে পারবে।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters