Hawkerbd.com     SINCE
 
 
 
 
বন্দরে স্ক্যানার সংকট পণ্য খালাস ব্যাহত [ ] 11/11/2017
১২ গেটে আছে তিনটি মেশিন ।। সাতদিনই ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার সুফল পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা
বন্দরে স্ক্যানার সংকট পণ্য খালাস ব্যাহত
চট্টগ্রাম বন্দরে স্ক্যানার সংকটে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমের গতিশীলতা। পণ্য খালাসে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ জট। অথচ আমদানি–রপ্তানি কাজে গতিশীলতা আনতে বন্দর–কাস্টমস সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু সাতদিনই ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সুফল পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্দরের ১২টি গেটে একটি করে স্ক্যানার থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র চারটি। এরমধ্যে গত মাসে একটি মোবাইল স্ক্যানার মেশিনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটি বন্ধ করে দেয় মেশিনটির সুইজারল্যান্ডভিত্তিক অপারেটর প্রতিষ্ঠান সোসাইটি জেনারেল ডি সার্ভিলেন্স (এসজিএস)। বিদ্যমান তিনটি স্ক্যানার দিয়ে কন্টেনার স্ক্যানিংয়ের ফলে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া চলমান অপর তিনটি স্ক্যানারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের এপ্রিলে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্ক্যানার প্রসঙ্গে কাস্টমস কর্তারা জানান, মোবাইল স্ক্যানারটি ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছিলো। তাই বর্তমানে কন্টেনার স্ক্যানিংয়ে কোন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। চলমান সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এছাড়া বাকি স্ক্যানার মেশিনেগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষের আগেই অপারেটর নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে তারা জানান।

 অপরদিকে গত ২০১৬ সালের মার্চে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আলাদা একটি স্ক্যানিং বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই উদ্যোগের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধের পাশাপাশি কন্টেনারে কোনো বিস্ফোরক, অস্ত্র বা নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টিকারী কোনো পণ্য আছে কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য কন্টেনার স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক। তবে বর্তমান স্ক্যানার মেশিন সংকটের কারণে পণ্য খালাসের সময় পণ্যভর্তি যানবাহনের দীর্ঘ জট তৈরি হচ্ছে বলে জানান আমদানিকারকরা। এছাড়া ১২টি গেটের মধ্যে ওজন মাপার যন্ত্র আছে মাত্র একটিতে। ফলে প্রায় সব কন্টেনার থেকে পণ্য নামিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে ওজন করতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া আলাদা স্ক্যানিং বিভাগ চালু করা গেলে বন্দরের কাজে গতিশীলতা দ্বিগুণ বাড়বে বলে জানান বলে কাস্টমস কর্তারা।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বৈশ্বিক নীতিমালার বাধ্যবাধকতার কারণে চিটাগাং পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (সিপিটিএফ) প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সালে চীনা কোম্পানি থেকে একটি মোবাইল কন্টেনার স্ক্যানার, তিনটি রিলোকেটেড কন্টেনার স্ক্যানার ও ১০টি রেডিয়েশন ডিটেকশন ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল না থাকায় দরপত্রের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৬ বছরের জন্য এসজিএসের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তবে গত ২০১৫ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আরো দুই বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে সেই মেয়াদও শেষ গেলে তৃতীয় দফায় গত আগস্টে মন্ত্রিসভার ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির সভায় মোবাইল স্ক্যানার পরিচালনার মেয়াদ ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এবং অপর তিনটি রিলোকেটেড স্ক্যানারের মেয়াদ ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিলো।

অপরারেটর প্রতিষ্ঠান এসজিএস’র চট্টগ্রাম অফিসের ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, বর্তমানে বন্দরের ৪ ও ৫ নম্বর গেট এবং সিসিটি–২ টার্মিনালে একটি করে রিলোকেটেড কন্টেনার রয়েছে। তবে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় সিসিটি–২ এর মোবাইল স্ক্যানার মেশিনটি বন্ধ হয়ে গেছে। শুরুতে স্ক্যানার এবং রেডিয়েশন ডিটেকশন ইক্যুইপমেন্ট পরিচালনায় আমাদের মোট ৬০ কর্মকর্তা–কর্মচারী নিয়োজিত ছিলো। গত মাসে মোবাইল স্ক্যানারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মোবাইল স্ক্যানার পরিচালনায় নিয়োজিত ১৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ফলে অন্য কর্মকর্তা–কর্মচারীরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আমরা তাদের রেখে দিয়েছি। বর্তমানে মেশিনগুলো ভালো সার্ভিস দিচ্ছে দাবি করে মিজানুর রহমান আরো বলেন, এসব ইক্যুইপমেন্ট অনেক উন্নতমানের। এছাড়া দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে স্ক্যানিংয়ের কার্যক্রম আরো উন্নত করা সম্ভব।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন বলেন, স্ক্যানার বিভাগ চালু এবং বিদ্যমান স্ক্যানার সংকট নিরসনে এনবিআর কাজ করছে। স্ক্যানার বিভাগ চালু হলে তখন আরো স্ক্যানার মেশিন যুক্ত হবে। এছাড়া এসব মেশিন পরিচালনার জন্য তখন নিজস্ব লোকবলও থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত স্ক্যানার সংকটের কারণে তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না। আমরা বাকি তিনটি স্ক্যানারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি। এছাড়া ওজন মাপার যন্ত্র সংযোজনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গত ২০১৫ সালে একটি চীনা কোম্পানি থেকে একটি রিলোকেটেড কন্টেনার স্ক্যানার কেনা হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সেই মেশিনটি এখনো বুঝিয়ে দেয়নি বলে এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছি, আশা করছি শিগগিরই সেটি চালু করা সম্ভব হবে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, স্ক্যানার সংকটের কারণে বন্দরে আমদানি–রপ্তানি প্রক্রিয়া প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া কোনো কন্টেনারে বিস্ফোরক, অস্ত্র বা নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টিকারী কোনো পণ্য আছে কিনা তা সব সময় জানাও সম্ভব হচ্ছে না। বন্দরের ১২টি গেটের মধ্যে মাত্র চারটিতে স্ক্যানার মেশিন থাকায় পণ্য খালাসের সময় পণ্যভর্তি যানবাহনের দীর্ঘ জট তৈরি হয়। সম্প্রতি মোবাইল স্ক্যানারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ সংকট আরো বেড়েছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রতিটি গেটের নতুন স্ক্যানার মেশিন ও ওজন মাপার যন্ত্রও সংযোজন করতে হবে। একই সাথে এনবিআরকে দ্রুত স্ক্যানিং বিভাগ চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র সহ–সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, বন্দরের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্য প্রতি বছর বাড়ছে। সেই হিসেবে যন্ত্রপাতি সংযোজন হয়নি। পণ্যের ডেলিভারি দ্রুত করার জন্য অবশ্যই প্রতিটি গেটে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করতে হবে। না হলে বন্দর–কাস্টমস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখলেও এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের মার্চে বন্দরের প্রতিটি গেটে স্ক্যানার মেশিন বসানোর পাশাপাশি আলাদা স্ক্যানিং বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সেই সময় এনবিআরে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কাঠামো পাঠানো হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, কাজে গতিশীলতা আনতে স্ক্যানিং বিভাগের জন্য ১৮৩ জন লোকবল নিয়োগ, ১২টি গেটের জন্য ১২টি স্ক্যানার মেশিন, ১০টি বিস্ফোরক পদার্থ শনাক্তকারী যন্ত্র, ৭টি মাইক্রোবাস, ৩৭টি কম্পিউটার সিসিটিভিসহ বিভিন্ন জিনিসের প্রয়োজন। এছাড়া স্ক্যানিং বিভাগের কন্টেনার স্ক্যানিং ও বিস্ফোরক পদার্থ শনাক্তকারী যন্ত্র পরিচালনার জন্য একজন অপারেশন ম্যানেজার, একজন কম্পিউটার অপারেশন সুপারভাইজার, একজন সিনিয়র কম্পিউটার অপারেটর নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি বিস্ফোরক পদার্থ শনাক্তকারী যন্ত্র পরিচালনার জন্য ২ জন কম্পিউটার অপারেটর ও ২ জন ট্রাফিক কো–অর্ডিনেটর (সমন্বয়কারী) পদ রাখা হয়েছে। মোট ৮০ জন কম্পিউটার অপারেটর ও ৮০ জন ট্রাফিক কো–অর্ডিনেটর সহ পুরো বিভাগে মোট ১৮৩ জন ৪ শিফটে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সেই প্রস্তাব পাঠানোর প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি স্ক্যানিং বিভাগ।
News Source
 
 
 
 
Today's Other News
• ১০ হাজার হজযাত্রীর প্রতিস্থাপন চায় হাব
• মিথ্যা ঘোষণায় আসা পণ্য আটকে বন্দরে বেড়েছে নজরদারি
• যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে সাফল্য
• হজ নিয়ে ঝামেলার শেষ নেই
• ছয় জাহাজে দূর হচ্ছে ২৭ বছরের অপেক্ষা
• বাণিজ্য উত্তেজনা সত্ত্বেও উড়োজাহাজ শিল্প চাঙ্গার পূর্বাভাস বোয়িংয়ের
• বিশ্বের সেরা উড়োজাহাজ সংস্থা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস
• নিট আয় বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের
• চালু হচ্ছে ই পাসপোর্ট
• সাত হাজার হজযাত্রীর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত দেয়নি এজেন্টরা
More
Related Stories
 
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
Forward to Friend Print Close Add to Archive Personal Archive  
 
 
Home / About Us / Benifits / Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2013-2012, Allright Reserved
free counters