[ নগর মহানগর ] 19/09/2014
 
রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫ চিনিকলে লোকসান ৫২৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা
সরকারি চিনিকলগুলোর দুঃসময় যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫ চিনিকলের সবই বর্তমানে লোকসানে। শুধু ২০১৩-১৪ অর্থবছরেই এই চিনিকলগুলো লোকসান দিয়েছে ৫২৮ কোটি ২৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন এই ১৫ চিনিকলের অধিকাংশের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালও শেষ হয়েছে অনেক আগেই। অন্য দিকে বেসরকারি খাতে স্থাপিত ছয়টি সুগার রিফাইনারির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত পারটেক্স সুগার মিল বর্তমানে বন্ধ।
এই সম্পর্কে গতকাল জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর লোকসানের জন্য রসুগার আমদানিকারক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে বলেছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো রসুগার আমদানির পুরো বিষয়টি কুক্ষিগত করে রেখেছে। তারা এত বেশি রসুগার আমদানি করছে যে, সেটির সাথে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো কুলাতে পারছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো নিজেরা উৎপাদন করে কম দামে চিনি বিক্রি করেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের কাছাকাছিও যেতে পারছে না। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলাপ করে আমরা সরকারি মিল থেকে ৪০ টাকায় চিনি বিক্রি করেছি। তাতেও লাভ হচ্ছে না। তবে এই অর্থ দিয়ে আখচাষিদের বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিষয়টির একটি সুরাহা করা জরুরি। এ ব্যাপারে হয় বেসরকারি খাতেই শুধু রসুগার আমদানি করে বিক্রি করতে হবে, আর না হয় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোকে আরো কম দামে চিনি বিক্রির অনুমোদন দিতে হবে। এ ছাড়া আপাতত গত্যন্তর নেই। গতকাল সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঝিনাইদহ-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর কাছে আখচাষিদের কোনো বকেয়া পাওনা নেই। তবে প্রশ্নকারী সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী বলেছেন, তার জানামতে আখচাষিরা আট কোটির বেশি টাকা পাওনা রয়েছে। সরকারি গুদামগুলোতে ৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকার চিনি এখনো অবিক্রীত পড়ে আছে জানিয়ে এই এমপি বলেন, ‘চিনি উৎপাদন যদি তেঁতো হয়, তাহলে উৎপাদন করার-ই বা দরকার কী?’ রসুগার আমদানিকারক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর লোকসানের জন্য বছরজুড়ে প্রয়োজনীয় আখের সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়টিকেও দায়ী করে আমির হোসেন আমু বলেছেন, আমাদের দেশে বছরে মাত্র তিন মাস আখের চাষ হয়। অবশিষ্ট ৯ মাসই আখ পাওয়া যায় না। যে কারণে চিনিকলগুলো ওই ৯ মাস চালু রাখা সম্ভব হয় না।
রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫টি চিনিকলের কার কত লোকসান
পঞ্চগড় চিনিকল (৩,৩৬৩.০৮ লাখ টাকা), ঠাকরগাঁও চিনিকল (৪,০২৭.১১ লাখ টাকা), দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ চিনিকল (৩,৬৯৭.২৪ লাখ টাকা), রংপুরের শ্যামপুর চিনিকল (২,৩৫৯.৫৩ লাখ টাকা), গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকল (২,৯৯০.৪১ লাখ টাকা), জয়পুরহাট চিনিকল (৪,১০৪.৮৫ লাখ টাকা), রাজশাহী চিনিকল (৪,০৫৩.০৬ লাখ টাকা), নাটোর চিনিকল (২,৯৮০.৯৫ লাখ টাকা), নাটোরের গোপালপুরের নর্থবেঙ্গল চিনিকল (৪,৬৩২.৫৮ লাখ টাকা), পাবনা চিনিকল (৩,৭৪৫.৬৯ লাখ টাকা), কুষ্টিয়া চিনিকল (৩,১৭৯.৯৬ লাখ টাকা), চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ‘কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড’ (২,৯২৮.১০ লাখ টাকা), ঝিনাইদহের নলডাঙ্গার মোবারকগঞ্জ চিনিকল (৪,৩১৪.০৪ লাখ টাকা), ফরিদপুর চিনিকল (৪,১৯৩.২০ লাখ টাকা) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে থাকা জিলবাংলা চিনিকল (২,২৫৭.৫৩ লাখ টাকা)। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই লোকসান হয়।
বেসরকারি খাতে স্থাপিত ৬টি সুগার রিফাইনারি
বেসরকারি খাতে স্থাপিত ছয়টি সুগার রিফাইানারি হলোÑ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, নরসিংদীর পলাশে দেশবন্ধু সুগার মিলস, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ইউনাইটেড সুগার মিলস ও আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি, চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পারটেক্স সুগার মিলস লিমিটেড। এর মধ্যে পারটেক্স সুগার মিলস বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।