[ অনলাইন ] 2026-06-11
 
বেশি কর দিতে হবে ধনীদের
 
নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে সমাজের উচ্চবিত্ত ও ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায়ের ছক থাকছে আসন্ন বাজেটে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্পদ কর আরোপ করতে না পারলেও বিলাসবহুল গাড়ি, স্বর্ণালংকার, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিলাসিতাকে টার্গেট করা হচ্ছে। এসব খাত থেকে কীভাবে বাড়তি রাজস্ব আদায় করা যায়, তার রূপরেখা থাকবে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কর সংস্কারের প্রধান বাধা রাজনৈতিক অর্থনীতির কাঠামো। আয়কর ব্যবস্থার আওতা সংকীর্ণ রেখে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে কর সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। বিএনপি এই বৈষম্যমূলক কাঠামোর অবসান ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের করজালের আওতায় আনা হবে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা, তথ্য বিনিময় ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা হবে। একই সঙ্গে কর ছাড় ও প্রণোদনা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হবে। ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। অতি ধনী বা শিল্পপতিদের ব্যবহৃত বিলাসবহুল উচ্চ সিসির গাড়ির অগ্রিম আয়কর বাড়ানো হয়েছে। ২৫০০-৩০০০ সিসি গাড়ির অগ্রিম আয়কর দেড় লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা, ৩০০০-৩৫০০ সিসি গাড়ির অগ্রিম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা, ৩৫০০-৪৫০০ সিসি গাড়ির অগ্রিম আয়কর সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা এবং ৪৫০০ সিসির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির অগ্রিম আয়কর ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে মধ্যবিত্তের ১৫০০ থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির কর আগের মতোই রয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্র নবায়নে কর বসানো হয়। সাধারণত অতি ধনী বা শিল্পপতিরা নিজের সুরক্ষায় ব্যক্তিগত অস্ত্র বহন করেন অথবা গানম্যান রাখেন। বাজেটে সব ধরনের অস্ত্রের মালিকানা নিবন্ধন বা লাইসেন্স ইস্যুর সময় বন্দুক, শটগান বা রাইফেলের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং পিস্তল বা রিভলভারের জন্য এক লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। অর্থাৎ শিল্পপতিদের সুরক্ষার খরচ বাড়বে। অন্যদিকে দেশে হেলিকপ্টারও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অন্তত ৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সমাজের বিত্তশালীদের টার্গেট করে হেলিকপ্টার সেবা দিচ্ছে। বাজেটে হেলিকপ্টারের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের সময় ১০ লাখ টাকা উৎসে কর দিতে হবে। অর্থাৎ হেলিকপ্টার চড়তে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে ধনীদের।

অবশ্য শিল্পপতি ও অতি ধনীদের চাপে সম্পদ কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। বাজেটে সম্পদ কর চালু করেনি বরং বিদ্যমান সারচার্জের কাঠামো আগামী ৫ বছরের জন্য বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, একজন করদাতার নিট সম্পদের মূল্য ৪ কোটি টাকার কম হলে সারচার্জ দিতে হয় না। সম্পদের মূল্য ৪ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ১০ কোটি টাকার কম হলে ১০ শতাংশ; ১০ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ২০ কোটি টাকার কম হলে ২০ শতাংশ; ২০ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ৫০ কোটি টাকার কম হলে ৩০ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হয়। আর নিট সম্পদের মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রদেয় করের ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হয়। প্রদেয় করের ওপর সারচার্জ আদায় করা হয়। 
Print Close  
Print Close  
News Source
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits /Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2009-2010, Allright Reserved