[ অনলাইন ] 2026-06-11
 
মাথাপিছু আয় বেড়ে ৩ হাজার ২০ ডলার
দেশে বিনিয়োগ কমলেও জিডিপি বেড়েছে
 
চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জিডিপির আকার, মাথাপিছু আয় এবং সেবা ও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হার কমেছে। অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর এই বিপরীতমুখী প্রবণতা সামষ্টিক অর্থনীতির ভেতরের কাঠামোগত পরিবর্তন ও সীমাবদ্ধতার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরছে।

বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জিডিপির সাময়িক হিসাবে এ তথ্য উঠে আসে।

সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধিতে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা ডলারে ৫০১ বিলিয়নের সমান। আগের অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে জিডিপির আকারে উল্লেখযোগ্য এই বৃদ্ধি অর্থনীতির পরিধি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাত প্রবৃদ্ধির একটি স্থিতিশীল উৎস হিসাবে কাজ করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ২ দশমিক ৪২ শতাংশের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। খাদ্যশস্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এবং কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমের বিস্তার এই খাতকে ইতিবাচক রেখেছে। অন্যদিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৭১ শতাংশের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। শিল্প খাতের এই মন্থরতাকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের সংকট এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতির প্রতিফলন হিসাবে দেখা হচ্ছে। শিল্প খাতের এই ধীরগতি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, পরিবহণ, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ খাতের কার্যক্রমে ধীরে গতি আসার ফলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বিনিয়োগের হার কমেছে। জিডিপির সঙ্গে মোট বিনিয়োগের অনুপাত কমে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে বিনিয়োগ অনুপাত কমেছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ পয়েন্ট। বিনিয়োগের এই নিম্নগতি ভবিষ্যৎ উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে সঞ্চয়ের হারেও পতন দেখা গেছে। দেশজ সঞ্চয় কমে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় কম। জাতীয় সঞ্চয়ও কমে ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সঞ্চয়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদের প্রাপ্যতা কমিয়ে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সক্ষমতাকে সীমিত করে। অন্যদিকে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা বা ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা। তবে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় প্রকৃত আয় কতটা বেড়েছে, সেটি পৃথকভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

সামগ্রিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অর্থনীতির আকার এবং মাথাপিছু আয়ে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়ার প্রবণতা অর্থনীতির ভেতরের কাঠামোগত চাপ ও সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। 
Print Close  
Print Close  
News Source
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits /Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2009-2010, Allright Reserved