[ অনলাইন ] 2026-06-11
 
বিদেশি বিনিয়োগ আনলে মিলবে ১.৫ শতাংশ ইনসেন্টিভ: প্রধানমন্ত্রী
 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি চাঙা করতে নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিকরা দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসলে তাদের মোট বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন প্রদান করা হবে। একই সাথে প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাইছি তা নয়, দেশিয় বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করতে চাইছি। এ জন্য আমরা ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ) পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।” ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “সুদের হার কমালে যদি দেখা যায় যে এটি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে, তবে সরকার নিশ্চয়ই সেটি গ্রহণ করবে।” তবে বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

পূর্ববর্তী শাসনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সাবিকুন্ নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, “স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।” তিনি জানান, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে যার সুফল পেতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে গৃহীত আর্থিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে।” এই তহবিল থেকে গ্রহণযোগ্যতা থাকা সমস্যাগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জটিলতা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কৌশল সম্পর্কে তিনি আরও জানান, “সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিদেশ থেকে কোনও বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক যদি দেশে ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) নিয়ে আসতে পারেন, তবে আমরা তাদের নিয়ে আসা মোট বিনিয়োগের ১.৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন হিসেবে দেব।” এর ফলে প্রবাসী ও যোগ্য প্রতিনিধিরা দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে আরও উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Print Close  
Print Close  
News Source
            Top
            Top
 
Home / About Us / Benifits /Invite a Friend / Policy
Copyright © Hawker 2009-2010, Allright Reserved