[ অনলাইন ] 19/03/2025 |
|
|
|
বাজেটে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না |
 |
|
আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির ন্যূনতম কর বাড়ানোর চিন্তা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাজেটে বাড়ছে না করমুক্ত আয়সীমা। সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকা ভেদে ব্যক্তির ন্যূনতম কর একেক রকম। বর্তমানে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ন্যূনতম করের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা। অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় এই করের পরিমাণ চার হাজার টাকা। আর সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ব্যক্তির ন্যূনতম কর তিন হাজার টাকা।
আগামী বাজেটে বাড়তি কর আদায়ের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে দুটি রূপরেখা তৈরি করেছে এনবিআর। প্রথমটি সারা দেশের সবার জন্য ন্যূনতম কর একই সমান করা। দ্বিতীয়ত, কাঠামো আগের মতো রেখে ন্যূনতম করের পরিমাণ বৃদ্ধি করা।
জানা গেছে, সারা দেশে সবার জন্য ন্যূনতম কর একই সমান করলে তা হতে পারে পাঁচ হাজার টাকা। অন্যদিকে আগের কাঠামো ধরে রাখলে সেই পরিমাণ বেড়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনবিআরের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। পরে এ বিষয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে ন্যূনতম করের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা ভাবছি। তবে আমাদের ভাবনাই চূড়ান্ত না। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত হবে। ন্যূনতম কর বেড়ে ১০ হাজার টাকা হওয়া উচিত।’
তবে এনবিআরের নতুন রূপরেখার সঙ্গে মত-দ্বিমত রয়েছে অর্থনীতিবিদ ও খাত বিশ্লেষকদের। উচ্চ মূল্যস্ফীতির জেরে ন্যূনতম কর বাড়ানো উচিত নয় বলে মত বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের। অন্যদিকে দীর্ঘদিন একই জায়গায় আটকে থাকায় বাড়ানো যেতে পারে বলে মত এনবিআরের সাবেক সদস্য (করনীতি) ড. সৈয়দ আমিনুল করিমের। অবশ্য আমিনুল করিম সেই সঙ্গে করমুক্ত আয়সীমাও বাড়ানোর পক্ষে।
ড. ফাহমিদা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষ চাপে আছেন। এই মুহূর্তে ন্যূনতম কর বাড়ানোর চিন্তা করা ঠিক হবে না। যদিও এনবিআরের ওপর কর আহরণের একটা চাপ আছে। এটা ধীরে ধীরে করতে হবে এবং নিম্ন আয়ের মানুষ দিয়েই শুরু করা যাবে না। সবার শেষে তাদের দিকে হাত বাড়াতে হবে। গত তিন বছরের মূল্যস্ফীতির চাপে অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। অনেকের ঠিকমতো চলছেও না। সেখানে ন্যূনতম কর বাড়ানোর প্রস্তাব সমর্থনযোগ্য নয়। এতে আরো বেশি বৈষম্য সৃষ্টি হবে।’
তিনি বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় ও মান দেশের একেক জায়গায় একেক রকম। ঢাকা শহরে বাসাভাড়া যতটা বেশি, অন্য জায়গায় ততটা না। সুতরাং এটা তো ভিন্ন রেট রাখাই উচিত হবে।’
ড. সৈয়দ আমিনুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই ন্যূনতম কর একই জায়গায় আছে। সুতরাং এটা বাড়ানো যেতে পারে। তবে খুব বেশি বাড়ালে মানুষের জন্য চাপ তৈরি হবে। এটা সাত হাজারের বেশি করা উচিত হবে না। সেই সঙ্গে করমুক্ত আয়সীমাও বাড়িয়ে কমপক্ষে চার লাখ টাকা করতে হবে।’
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না
উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে এনবিআরকে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠন। তবে ন্যূনতম করের পরিমাণ বাড়ানোর ভাবনা থাকলেও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর ভাবনা নেই এনবিআরের। তাই আগামী বাজেটে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বর্তমান কাঠামো।
বর্তমানে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। পরবর্তী এক লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ৫ শতাংশ, পরবর্তী চার লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ।
সর্বোচ্চ করহার হতে পারে ৩০ শতাংশ
বর্তমানে আয়করব্যবস্থায় সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ। তবে গত কয়েক বছরের বাজেটে বিত্তবানদের কাছ থেকে ৩০ শতাংশ কর আদায়ের কথা ভেবেছিল এনবিআর। অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবার তা বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার। জানা গেছে, বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ হলেও এটিকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনার টেবিলে আছে। |
News Source
|
|
|
|
|
|
|
|
Today's Other News
|
Related Stories |
|
|
 |
|